পৃষ্ঠাসমূহ

সাকিব আল হাসান

| | |

সাকিব আল-হাসান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাকিব আল হাসান
Shakib-Al-Hasan-Face.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পুর্ণ নামসাকিব আল হাসান
জন্ম২৪ মার্চ ১৯৮৭ (বয়স ২৩)
মাগুরাযশোরবাংলাদেশ
ডাক নামসাকিব
ব্যাটিং স্টাইলবামহাতি
বোলিং স্টাইলবামহাতি অর্থোডক্স
ভূমিকাঅলরাউন্ডার
আর্ন্তজাতিক দলগত তথ্য
জাতীয় দলবাংলাদেশ
টেস্ট অভিষেক (cap ৪৩)১৮ মে ২০০৭ v ভারত
সর্বশেষ টেস্ট২০ মার্চ ২০১০ v [[ইংল্যান্ড cricket team|ইংল্যান্ড]]
ওডিআই অভিষেক(cap ৮৫)৬ অগাষ্ট ২০০৬ v জিম্বাবুয়ে
সর্বশেষ ওডিআই৫ মার্চ ২০১০ v ইংল্যান্ড
ওডিআই জার্সি নম্বর৭৫
ঘরোয়া দলগত তথ্য
বছরদল
২০০৪-বর্তমানখুলনা বিভাগ
আবাহানী
{{{year3}}}ওর্চেস্টারশায়ার
খেলাধুলা পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতাটেস্টওডিআইএফসিলিস্ট এ
ম্যাচ১৯৮৫৪৩১০২
সর্বমোট রান১১২৭২২৮৮২৫৭৬২৬৫৫
ব্যাটিং গড়৩৩.১৪৩৪.১৪৩৫.২৮৩১.৯৮
১০০/৫০১/৫৪/১৩৪/১৩৪/১৬
সর্বো্চ্চ স্কোর১০০১৩৪*১২৯১৩৪*
বল করেছেন২০০৩৩০০৩৮৬৩৩৪৯৯৮
উইকেট৬৭৯৫১২১১০৮
বোলিং গড়৩১.৮২৩০.৭৩৩১.৪৮৩১.৪০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং৯/১১৫৪/৩৩৭/৩৬৪/৩০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং৮;১৮২৪/–২৭/–
তথ্যসূত্র: ক্রিকেট আর্কাইভ ডট কম, ৭ এপ্রিল ২০১০

সাকিব আল-হাসান ( জন্ম: ২৪ মার্চ ১৯৮৭) একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক। বাম হাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। বাম হাতি অর্থোডক্স স্পিনার। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

সূচিপত্র

 [আড়ালে রাখো]

[সম্পাদনা]প্রথম জীবনে এবং যুব ক্রিকেটে

তরুণ বয়সেই সাকিব ফুটবল খেলা শুরু করেছিল। তাঁর বাবা খুলনা বিভাগেরহয়ে খেলতেন এবং এক কাজিন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে। এরকম ফুটবল পাগল পরিবারে বড় হওয়া সত্ত্বেও সাকিবের ক্রিকেট দক্ষতা ছিল অসধারণ। গ্রাম-গ্রামান্তরে তাঁকে খেলার জন্য ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হত। এরকমই এক ম্যাচে সাকিব এক আম্পায়ারকে ইম্প্রেস করেছিল যিনি কিনা সাকিবকে ইসলামপুর পাড়া ক্লাব (মাগুরা ক্রিকেট লীগের একটি দল) এর সাথে অনুশীলন করার সুযোগ করে দেন। সাকিব তাঁর স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্নক ব্যাটিং ও দ্রুতগতির বোলিং অব্যাহত রাখেন, সেই সাথে প্রথমবারের মত স্পিন বোলিং নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেন ও সফল হন। ফলস্বরূপ, ইসলামপুর দলে তিনি ডাক পান এবং প্রথম বলেই তিনি উইকেট তুলে নেন। সত্যিকারের ক্রিকেট বল দিয়ে এটাই ছিল তাঁর প্রথম করা বল। এর আগ পর্যন্ত তিনি টেপড টেনিস বল দিয়েই খেলতেন।
মাত্র পনের বছর বয়সেই সাকিব অনূর্দ্ধ-১৯ দলে খেলার সুযোগ পান। ২০০৫ সালে অনূর্দ্ধ-১৯ ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে (অপর দুটি দেশ ছিল ইংল্যান্ডও শ্রীলঙ্কা) মাত্র ৮৬ বলে সেঞ্চুরি করে ও তিনটি উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে সহায়তা করেন তিনি। ২০০৫ থেকে '০৬ সালের মধ্যে সাকিব অনূর্দ্ধ-১৯ দলের হয়ে ১৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ৩৫.১৮ গড়ে তিনি মোট ৫৬৩ রান সংগ্রহ করেন এবং ২০.১৮ গড়ে নেন মোট ২২টি উইকেট।

[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে ট্যুরে সাকিব প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয় দলেখেলার সুযোগ পান। একই ট্যুরে ওয়ানডে অভিষেক হয় ফরহাদ রেজা ওমুশফিকুর রহিমের। সাকিব ও রেজাকে তখন "দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভা" হিসেবে গণ্য করা হত, সকল ডিপার্টমেন্টে যাদের দক্ষতা অসামান্য। তৎকালীন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের বক্তব্য এ প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্যঃ "তরুণদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। এখনই সময় তাদের আন্তর্জাতিক লেভেলে খেলার সুযোগ করে দেয়া।" একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় সাকিবের অভিষেক হয় ৬ই আগস্ট। তার প্রথম শিকার হন এল্টন চিগাম্বুরা। ৩৯-১, এই ছিল তাঁর সেদিনকার বোলিং ফিগার। ব্যাট হাতে তিনি ৩০ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শাহরিয়ার নাফিস সেদিন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে ভূমিকা রাখেন। ম্যাচটি ছিল সিরিজের শেষ ম্যাচ যাতে জিম্বাবুয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়। একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে সাকিব, ফরহাদ রেজা ও মেহরাব হোসেন জুনিয়র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ফলে, বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের সঙ্খ্যা ২০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ এ।[১]
ওয়েস্ট-ইন্ডিজ আয়োজিত 'বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০০৭' এ হাবিবুল বাশারেরনেত্‌ত্বাধীন ১৫ জনের বাংলাদেশ স্কোয়াডে ডাক পান এই তরুণ ক্রিকেটার[২] । টুর্নামেন্টের দ্বিতীর পর্বে যেতে সক্ষম হয় এই দল এবং ৭ নম্বর টিম হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করে[৩] । শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে দলটি বড়সড় রকমের আপসেটের জন্ম দেয়[৪] । তামিম ইকবালমুশফিকুর রহিম ও সাকিব-তিনজনের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে বাংলাদেশ সহজেই ১৯২ রানের টার্গেটে পৌঁছে যায়। টুর্নামেন্টে সাকিব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৯ ম্যাচে তিনি ২৮.৮৫ গড়ে ২০২ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন মোহাম্মদ আশরাফুল (২১৬)। সাকিব ৪৩.১৪ গড়ে ৭টি উইকেটও নেন[৫] ।
সে বছরই মে মাসে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে'র এক সফরে ভারত বাংলাদেশে আসে। মে মাসের ১৮ তারিখ সাকিবের টেস্ট অভিষেক হয় ভারতের বিপক্ষে। অভিষেকটা ঠিক স্বপ্নের মত হয়নি তার জন্য। এক ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে এই অলরাউন্ডার ২৭ রান করেন এবং ১৩ ওভার বল করে উইকেটশূণ্য অবস্থায় থাকেন। ম্যাচটি ড্র হয়। ভারত টেস্ট সিরিজ জেতে ১-০ ব্যবধানে এবং ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ তে। সিরিজ শেষে ডেভ হোয়াটমোর দলের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন এবং হাবিবুল বাশারের স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদ আশরাফুল[৬] [৭] । সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজিত 'আইসিসি টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ' এর প্রথম রাউন্ডে ওয়েস্ট-ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পায়[৮] । ম্যাচটিতে সাকিব ৩৪ রানে নেন ৪ উইকেট। সাকিব-ই প্রথম বাংলাদেশী যিনি টি-২০ ফরম্যাটে ৩টির বেশি উইকেট নেয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। অক্টোবর মাসে ঘোষণা করা হয় যে, জিমি সিডন্স, অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন সহকারী কোচ, বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিতে আসছেন[৯] । সিডন্স বাংলাদেশের উন্নতিকল্পে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেন এবং ট্যালেন্টেড তরুণদের আন্তর্জাতিক লেভেলে বেশি বেশি সুযোগ দেবার ঘোষণা দেন।
২০০৭ এর ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ দল দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলতে নিউজিল্যান্ড আসে [১০] । প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগ না পেলেও পরের টেস্টেই সাকিব এনামুল হক জুনিয়রকে রিপ্লেস করেন তার ব্যাটিং কোয়ালিটির জন্য। এটা ছিল সাকিবের চতুর্থ টেস্ট। তখন পর্যন্ত সাকিব টেস্টে উইকেটশূণ্য ছিলেন। সাকিবের প্রথম টেস্ট শিকার হন নিউজিল্যান্ডের ক্রেইগ কামিং। নিউজিল্যান্ড জেতে এক ইনিংস ও ১৩৭ রানে[১১]। ওয়ানডে সিরিজেও নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে। তিন ম্যাচে সাকিব ১০.৩৩ গড়ে ৩১ রান করেন এবং ৪২.৩৩ গড়ে তিনটি উইকেট নেন[১২] । ২০০৮ এর ফেব্রুয়ারী-মার্চে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ সফরে আসে। দুটো টেস্টেই সফরকারী দল জয়লাভ করে। সাকিব ১২২ রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট নেন এবং ব্যাট হাতে ৭৫ রান করেন[১৩] [১৪] । ওয়ানডে সিরিজেও দক্ষিন আফ্রিকা ৩-০ তে জয় পায়। এ সিরিজেই সাকিব ওয়ানডেতে ১০০০ রানের মাইলস্টোন অতিক্রম করেন। ৩৯টি ম্যাচ খেলে সাকিবের ব্যাটিং গড় তখন ৩৫.৩৭।

[সম্পাদনা]বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার হয়ে ওঠা (২০০৮-২০০৯)

সাকিব আল হাসানের গড় 1 অক্টোবর, ২০০৮
ম্যাচরানব্যাটিং গড়উইকেটবোলিং গড়
টেস্ট২১৭২১.৭০১০৪.৬৬
ওডিআই৫১1১,২৯২৩২.৩০৫০৩৪.৩৮
একজন অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও অক্টোবর,২০০৮ এর নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ ট্যুরের আগ পর্যন্ত সাকিবকে বোলার নয়, ব্যাটসম্যান হিসেবেই গণ্য করা হত। টেস্টে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামলেও ওয়ানডেতে কিন্তু প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যেই থাকতেন তিনি। ট্যুরের আগ দিয়ে কোচ জিমি সিডন্স জানালেন, সাকিবকে স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবেই টেস্ট সিরিজ খেলানো হবে। কোচকে হতাশ করেননি সাকিব। উদবোধনী টেস্টের প্রথম ইনিংসেই তিনি ৩৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৭টি উইকেট। তখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী বোলারের টেস্টে এটাই ছিল বেস্ট বোলিং ফিগার। বাংলাদেশ সিরিজ হারে ২-০ তে, কিন্তু সাকিব ১৭.৮০ গড়ে ১০টি উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পায়। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়[১৫]। শেষ পর্যন্ত অবশ্য স্বাগতিক দল সিরিজ হারে ২-১ এ [১৬]। সাকিব ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে মাশরাফি মুর্তজা (৭ উইকেট)'র পেছনে থেকে সিরিজে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন [১৭]
পরের মাসেই বাংলাদেশ দল দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-২০ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় [১৮] । সাকিবের বোলিং পারফরম্যান্স এখানেও অব্যাহত থাকে। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন সাকিব উইকেটশূণ্য থাকলে মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন, বাংলাদেশের তৎকালীন সহকারী কোচ, তাকে বলে 'ফ্লাইট' দেবার পরামর্শ দেন। গুরুর উপদেশ শিরোধার্য করে সাকিব দ্বিতীয় দিনেই পাঁচ-পাঁচটি উইকেট তুলে নেন। দ্বিতীয় টেস্টে সাকিব আবারও এক ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেন। সিরিজ শেষে সাকিবের ঝুলিতে জমা হয় ২০.৮১ গড়ে ১১টি উইকেট [১৯]। সাকিবের বোলিং দেখে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেগ স্পিনার ক্যারি ও' কীফে তাকে 'বিশ্বের সেরা ফিঙ্গার স্পিনার' হিসেবে অভিহিত করেন। ২০০৮ এর ডিসেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কা এদেশে দুটি টেস্ট ও একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট (অপর দলটি ছিল জিম্বাবুয়ে) খেলতে আসে[২০] । দুটো টেস্টই শ্রীলঙ্কা জিতে নেয়। সেই সাথে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালও। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য সাকিবের করা ৯২* রানের ইনিংসটি বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের একমাত্র জয়ের স্বাদ এনে দেয়[২১] । সাকিব ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।
২২ জানুয়ারী, ২০০৯ সাকিব আইসিসি'র ওডিআই অলরাঊন্ডার র‍্যাঙ্কিং এ ১ নম্বরে উঠে আসেন[২২] । ২০১১ সালে আইপিএল এর নিলামে তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনে নেয়।

[সম্পাদনা]সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে

২০০৯ এর শুরুতে বাংলাদেশের টানা কয়েকটি হার এবং দীর্ঘ রানখরার কারণে আশরাফুলের অধিনায়কত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। তখন থেকেই বিসিবি সাকিবকে জাতীয় দলের 'সম্ভাব্য কর্ণধার' হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। বিসিবি অবশ এতো দ্রুত সাকিবের কাঁধে অধিনায়কত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার পক্ষপাতী ছিল না। পরবর্তীতে 'টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ,২০০৯' এর প্রথম পর্বেই বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড ও ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেবার ফলে আশরাফুলের অধিনায়কত্বের বিষয়টি আবার সামনে চলে আসে। জুন,২০০৯ এর মাশরাফিকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়, সাকিবকে করা হয় সহ-অধিনায়ক[২৩] ।
জুলাই মাসে বাংলাদেশ ওয়েস্ট-ইন্ডিজ সফরে যায়। প্রথম টেস্টেই মাশরাফি হাঁটুর ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। খেলার শেষ দিনে তিনি মাঠেই নামতে পারেননি এবং তার জায়গায় অধিনায়কত্ব করেন সাকিব। অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে সাকিব যেন নতুন রূপে জ্বলে ওঠেন। তিনি ও মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাকের নেত্‌ত্ব দেন এবং দু'জনে মিলে মোট ১৩টি উইকেট তুলে নিয়ে দেশকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেন[২৪] । দেশের বাইরে এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ওয়েস্ট-ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম এবং সর্বসাকুল্যে দ্বিতীয় টেস্ট বিজয়[২৫] । ওয়েস্ট-ইন্ডিয়ান দলটি অবশ্য খানিকটা অনভিজ্ঞ ছিল। বেতনাদি নিয়ে তখন ওয়েস্ট-ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ও 'খেলোয়াড় সংগঠন'এর মধ্যে রেষারেষি চলছিল। দলের প্রথম একাদশ এ সিরিজটি বর্জন করে এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি দল মাঠে খেলতে নামে। সাতজন খেলোয়াড়ের টেস্ট অভিষেক হয় এই ম্যাচে। দলের নেতৃত্ত্বে ছিলেন ফ্লয়েড রেইফার, যিনি কিনা শেষ ১০ বছরে মাত্র ৪টি টেস্ট খেলেছিলেন[২৬] ।

[সম্পাদনা]অধিনায়কের দায়িত্বে (২০০৯-২০১০)

[সম্পাদনা]ওয়েস্ট-ইন্ডিজ

মাশরাফির ইনজুরিজনিত অনুপস্থিতির কারণে সিরিজের বাকি সময়টা সাকিবই বাংলাদেশকে নেত্‌ত্ব দেন। ২২ বছর ১১৫ দিন বয়সে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ও ইতিহাসের পঞ্চম কনিষ্ঠতম অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সাকিবের নেত্‌ত্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টও জিতে নেয় এবং দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় [২৭]। ব্যাট হাতে ১৬ ও ৯৬* রান করে এবং বল হাতে ৫৯/৩ ও ৭০/৫ উইকেট নিয়ে সাকিব ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ও ম্যান অফ দ্যা সিরিজ-দুটো পুরস্কারই নিজের ঝুলিতে পুরেন। গোটা সিরিজে তিনি ৫৩.০০ গড়ে ১৫৯ রান করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হন এবং ১৮.৭৬ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়ে কেমার রোচের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন [২৮]। টেস্ট সিরিজ ২-০ তে জেতার পর বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজও ৩-০ তে জেতে। সিরিজে সাকিব দুটি হাফ-সেঞ্চুরি করেন। ব্যাটিং গড় ছিল ৪৫.০০ [২৯]। ৪৮.০০ গড়ে তিনি দুটো উইকেটও নেন। এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য ওয়ানডে সিরিজেও তিনি 'সেরা খেলোয়াড়ে'র খেতাব জিতে নেন।



টেস্ট ম্যাচ

রেকর্ডস:
  • সপ্তম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহ কে সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহঃ ১৪৫ বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০[৫৭]
  • এক ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারঃ ৭/৩৬ বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৭ অক্টোবর ২০০৮[৫৮]
  • বাংলাদেশের সেরা বোলিং গড় (কমপক্ষে ১৫টি উইকেট প্রাপ্ত বোলারদের মধ্যে) ২১ ম্যাচে ৭৫ উইকেট, ৩২.১৩ গড়ে[৫৯]
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ পুরস্কার:[৬০]
তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যুরেকর্ডস
২৬–৩১ ডিসেম্বর ২০০৮শ্রীলঙ্কা এর পতাকা শ্রীলঙ্কাশের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামমিরপুরঢাকাব্যাটিং ২৬ এবং ৯৬; বোলিং: ৫/৭০ এবং ১/১৩৪[৬১]
১৭–২০ জুলাই ২০০৯ ওয়েস্ট ইন্ডিজকুইন্স পার্ক ওভালপোর্ট অব স্পেনত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোব্যাটিং: ১৬ এবং ৯৬*; বোলিং ৩/৫৯ এবং ৫/৭০[৬২]
ক্যারিয়ার পারফরম্যান্স:
 ব্যাটিং[৬৩]বোলিং[৬৪]
প্রতিপক্ষম্যাচরানগড়সর্বোচ্চ স্কোর১০০/৫০রানউইকেটগড়সেরা
ইংল্যান্ড এর পতাকা ইংল্যান্ড২০২২৫.২৫৯৬০/১৬২৮১৭৩৬.৯৪৫/১২১
ভারত এর পতাকা ভারত১৪৭২১.০০৩৪০/০৩৮৩৪২.৫৫৫/৬২
টেমপ্লেট:Country data NZ৩৫৮৫৯.৬৬১০০১/২৩৫৫১৩২৭.৩০৭/৩৬
দক্ষিণ আফ্রিকা এর পতাকা দক্ষিণ আফ্রিকা১২১১৫.১২৪০০/০৩৫১১২২৯.২৫৬/৯৯
শ্রীলঙ্কা এর পতাকা শ্রীলঙ্কা১৯২৩২.০০৯৬0/১৪৪৯১১৪০.৮১৫/৭০
 ওয়েস্ট ইন্ডিজ১৫৯৭১.৯৪৯৬*০/১২৪৪১৩১৮.৭৬৫/৭০
সর্বমোট২১১,১৭৯৩১.০২১০০১/৫২,৪১০৭৫৩২.১৩৭/৩৬

[সম্পাদনা]ওডিআই ম্যাচ

রেকর্ডস
  • ৫ম উইকেট জুটিতে - রাকিবুল হাসানকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ১২ মার্চ ২০০৮[৬৫] <<< রানের কথা উল্লেখ নেই>>>
  • বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা ব্যাটিং গড়: ৩৪.৯৮[৬৬]
  • বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি: ৫টি।[৬৭]
ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার:[৬৮]
তারিখপ্রতিপক্ষরেকর্ডস
জানুয়ারী ২০০৯জিম্বাবুয়ে এর পতাকা জিম্বাবুয়ে৩৫.০০ গড়ে ৭০ রান;   ৮.৩৩ গড়ে ৬টি উইকেট.[৬৯]
জানুয়ারী ২০০৯ ওয়েস্ট-ইন্ডিজ৪২.৫০ গড়ে ১৭০রান; ৩৯.৬৬ গড়ে ৬টি উইকেট
অক্টোবর ২০১০টেমপ্লেট:Country data NZ৭১.০০ গড়ে ২১৩রান; ১৫.৯০ গড়ে ১১টি উইকেট
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার:[৬০]
তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যুরেকর্ড
১৫ ডিসেম্বর, ২০০৬স্কটল্যান্ড এর পতাকা স্কটল্যান্ডবীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামচট্টগ্রামব্যাটিং: ২০*; বোলিং: ৫/৭০[৭০]
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭জিম্বাবুয়ে এর পতাকা জিম্বাবুয়েহারারে স্পোর্ট ক্লাবহারারেব্যাটিং: ৬৮; বোলিং: ১/৪০[৭১]
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭কানাডা এর পতাকা কানাডাএন্টিগুয়া রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডসেন্ট জোনস, এন্টিগুয়া এন্ড বারমুডাব্যাটিং: ১৩৪*; বোলিং: ২/৩৬[৭২]
১৬ এপ্রিল, ২০০৮পাকিস্তান এর পতাকা পাকিস্তানমুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামমুলতানপাকিস্তানব্যাটিং: ১০৮; বোলিং: ১/৩৪[৭৩]
১৪ জানুয়ারী, ২০০৯শ্রীলঙ্কা এর পতাকা শ্রীলঙ্কাশের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামমিরপুরঢাকাব্যাটিং: ৯২*; বোলিং: ০/২৪[৭৪]
২৮ জুলাই, ২০০৯ ওয়েস্ট-ইন্ডিজউইন্ডসর পার্করোজিওব্যাটিং: ৬৫; বোলিং: ১/৪২[৭৫]
১১ আগস্ট, ২০০৯জিম্বাবুয়ে এর পতাকা জিম্বাবুয়েকুইন্স স্পোর্টস ক্লাববুলাওয়েব্যাটিং: ১০৪; বোলিং: ২/৩৯[৭৬]
৫ অক্টোবর, ২০১০টেমপ্লেট:Country data NZশের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামমিরপুরঢাকাব্যাটিং ৫৮; বোলিং ৪/৪১[৭৭]
১৪ অক্টোবর, ২০১০টেমপ্লেট:Country data NZশের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামমিরপুরঢাকাব্যাটিং: ১০৬; বোলিং: ৩/৫৪[৭৮]
ক্যারিয়ার পারফরম্যান্স:
 ব্যাটিং[৭৯]বোলিং[৮০]
প্রতিপক্ষম্যাচরানগড়সর্বোচ্চ স্কোর১০০ / ৫০রানউইকেটগড়সেরা বোলিং ফিগার
অস্ট্রেলিয়া এর পতাকা অস্ট্রেলিয়া৪৭৮১৯.৫০২৭০/০১২৩৩০.৭৫২/৩৮
টেমপ্লেট:Country data BER৬৮৪২*০/০৪৮১৬.০০২/১২
কানাডা এর পতাকা কানাডা১৩৪১৩৪*১/০৩৬১৮.০০২/৩৬
ইংল্যান্ড এর পতাকা ইংল্যান্ড১৪৮২৪.৬৬৫৭*০/১২৮৮৩২.০০৩/৩২
ভারত এর পতাকা ভারত২০০৩৩.৩৩৮৫০/৩২৭৯৪৬.৫০২/৪৩
Flag of Ireland আয়ারল্যান্ড৯৫২৪.১১৫০০/১২১৭২৪.১১২/১৬
কেনিয়া এর পতাকা কেনিয়া৫৮২৯.০০২৫*০/০৮৬২৮.৬৬২/৩২
নেদারল্যান্ডস এর পতাকা নেদারল্যান্ডস১৫১৫.০০১৫০/০৩৬১৮.০০২/৩৬
টেমপ্লেট:Country data NZ১৪৩২৯২৭.৪১১০৬১/১৫৩৪২৪২২.২৫৪/৩৩
পাকিস্তান এর পতাকা পাকিস্তান২১৭৩৬.১৬১০৮১/১২৯০৪১.৪২২/৫০
স্কটল্যান্ড এর পতাকা স্কটল্যান্ড৬৪৬৪.০০৪৪০/০২১১০.৫০১/৮
দক্ষিণ আফ্রিকা এর পতাকা দক্ষিণ আফ্রিকা১৪৭২৪.৫০৫২০/২২৬৮৫৩.৬০২/৪৮
শ্রীলঙ্কা এর পতাকা শ্রীলঙ্কা১০২৫৭৩২.১২৯২*০/২৩৩০৬৬.০০২/২২
 West Indies১৩৫২৭.০০৬৫০/২১৪৬৪৮.৬৬১/২৬
জিম্বাবুয়ে এর পতাকা জিম্বাবুয়ে২৯৮৮৯৪৪.৪৫১০৫*২/৪১,০১৪৪৫২২.৫৩৪/৩৯
সর্বমোট১০২২,৮৩৪৩৪.৯৮১৩৪*৫/১৭৩,৭১৬১২৯২৮.৮০৪/৩৩